আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রদর্শনী শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে একের পর এক ছবি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল দিল্লির বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা ও রবার্ট বঢরার ছেলে, শিল্পী ও আলোকচিত্রী রায়হান বঢরার দাবি, দিল্লির সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনের ছবি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তাঁর অভিযোগ, এভাবে তরুণ শিল্পীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে।
রায়হানের একক প্রদর্শনীর নাম ‘নো আইডিয়া ইজ ফাইনাল’। বুধবার প্রদর্শনীর প্রাথমিক ঝলক দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলার কথা। কিন্তু রায়হানের অভিযোগ, বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টের সময় তাঁকে জানানো হয়, বিকেল ৫টার মধ্যে নির্দিষ্ট ছবিগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে প্রদর্শনী বাতিল করা হতে পারে।
https://www.instagram.com/p/Dewj64PiivW/
কেন সরানো হল ছবিগুলি?
রায়হানের দাবি, প্রদর্শনীর ছবিগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এই মুহূর্তে ওই ছবিগুলি প্রদর্শন করা উপযুক্ত নয়। তবে শিল্পীর বক্তব্য, ছবিগুলি কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। গত ছয় মাসে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন প্রতিবাদ ও আন্দোলনের দৃশ্যই ক্যামেরায় তুলে ধরেছিলেন তিনি। প্রদর্শনীর পরিকল্পনা ও বিন্যাস সম্পর্কেও আগেই বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রায়হান।
তাঁর কথায়, একজন ভারতীয় শিল্পী হিসেবে এই ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করা তাঁর দায়িত্ব। শিল্পীদের কাজের উপর এভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এমনকী, ভারতীয় জাতীয় পতাকার ছবিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রায়হান।
রাজনৈতিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনের বিরোধিতা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিল্পকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা যায় না।
ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে কী বললেন প্রিয়াঙ্কা?
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বলেন, ছবিগুলিতে আপত্তিকর কিছু ছিল না। সেগুলি শুধুমাত্র বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্যগত নথি। তাঁর আশঙ্কা, আজ রায়হানের সঙ্গে যা ঘটেছে, আগামী দিনে অন্য শিল্পীদেরও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
৭০টিরও বেশি ছবি সরানোর অভিযোগ
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে প্রথমে ১০০টিরও বেশি ছবি ও শিল্পকর্ম ছিল। এর মধ্যে বন্যপ্রাণীর ছবি, বিমূর্ত শিল্প এবং সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের উপর স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও ছিল। রায়হানের অভিযোগ, সেখান থেকে ৭০টিরও বেশি ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রদর্শনীতে প্রায় ৪০টি ছবি রয়েছে।
বিকানের হাউসের সিসিএ ভবনের প্রথম তলায় প্রদর্শনীর জায়গায় ছবিগুলি সরিয়ে নেওয়ার চিহ্নও দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লাল দেওয়ালে ছবির পেরেক রয়ে গেলেও অনেকটা অংশ ফাঁকা ছিল। সেই ফাঁকা দেওয়ালগুলির পাশে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রতিলিপি রাখা হয়েছিল।
এবিষয়ে বিকানের হাউসের এক আধিকারিক মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে মন্তব্য করার অনুমতি তাঁর নেই। ফলে প্রদর্শনী থেকে ছবি সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
