ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের আঞ্চলিক হামলা ও আগ্রাসনের ঝুঁকির মুখে মধ্যপ্রাচ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে নিজেদের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল এডভাইজরি) হালনাগাদ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্প্রতি বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারে ধারাবাহিক হুতি হামলার পর রিয়াদ, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, লেবানন ও ইসরায়েলসহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হুতিদের নতুন কোনো সক্ষমতার কারণে নয়, বরং সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রেক্ষিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ তথ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জয় ক্লেটনের এক স্মারকে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানের প্রাণঘাতী চক্রান্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং পরে তা দেশটির বিমান ও জ্বালানি পরিকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত করে। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে এক মার্কিন নাগরিকও ছিলেন।
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই অনুরূপ আরেকটি সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
