ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। রোমার সমর্থকরা তখন জয়ের উৎসবে মাততে প্রস্তুত।
কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ যে কেন বারবার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে, শেষ মুহূর্তে আবারও তার প্রমাণ মিলল। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে রোমাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় তুলে নেয় জোসে মরিনহোর দল। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ছয়ে। অন্যদিকে, রোমার সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই। ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তার জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পের শট প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতায় এটি ছিল ফরাসি তারকার ৭২তম গোল।
বিরতির আগে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যাম গোলের কাছাকাছি গেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি; ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নেয় রোমা। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে আবার এগিয়ে দেন ডাচ স্ট্রাইকার দোনিয়েল মালেন। এর সাত মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোল করে রোমার ব্যবধান বাড়ান তিনি। গোলটির বৈধতা নিয়ে ভিএআর পর্যালোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত মালেনকে অনসাইড ঘোষণা করা হয়।
স্কোরলাইন তখন ৩-১। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রাখায় রোমার জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। রিয়ালের সামনে তখন ম্যাচে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণ শক্তিশালী করতে বদলি খেলোয়াড় নামায় রোমা। কিন্তু রিয়ালের পাল্টা আক্রমণ থামানো যায়নি। ৮৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। তার গোলে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় রিয়াল শিবির।
এরপর ৮৬ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে হেডে গোল করে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। রোমার জয়ের স্বপ্নে তখন বড় ধাক্কা।
নাটকের শেষ অঙ্ক বাকি ছিল আরও। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে গুলেরের নিখুঁত সেট পিস থেকে কাছ থেকে ভলিতে বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। তার গোলেই ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
ম্যাচের আগে গ্যালারিতে মরিনহোকে ঘিরে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন রোমার সমর্থকরা। আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকার সময় দলটিকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। তার অধীনে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি।
কিন্তু এবার সেই পরিচিত মাঠেই রোমার সমর্থকদের আনন্দ শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় হতাশায়। ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে পারেনি স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, মরিনহোর কৌশল, বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর অবদান এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতায় অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ।
