শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬২৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়নের তিন শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে প্রতিদিন ১৪টি পিকআপ পেট্রোল টিম এবং ১০টি মোটরসাইকেল পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন পর্যবেক্ষণ ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালীবাড়ি এলাকায় শ্রীশ্রী জয়কালী মাতা মন্দিরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৯-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান।
তিনি জানান, ১৩ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসআরবি-৯-এর দায়িত্বপূর্ণ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৩ হাজার ২৩৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৬২৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, নাশকতা বা সন্দেহজনক তৎপরতা মোকাবিলায় বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা উসকানির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং টিম নজরদারি চালাচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভ টিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জনের নির্ধারিত পথে বিশেষ টহল থাকবে। বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পূজা উদ্যাপন কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, বিজিবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত এসআরবি সদস্য, নিকটস্থ ক্যাম্প বা কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী এবং একই ইউনিটের স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মাহফুজুর রহমান।
উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে এসআরবি-৯ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।’
