স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান
দেশে গত বছরের তুলনায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অপরাধবিষয়ক তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী
# কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি গঠন হচ্ছে সারাদেশে
স্টাফ রিপোর্টার
দেশে গত বছরের তুলনায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অপরাধবিষয়ক তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের মতো অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ডাকাতির ঘটনা ছিল ৫৩৮টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮৭টিতে। একইভাবে দস্যুতার ঘটনা ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে ১ হাজার ৩৭৪টিতে নেমেছে। এ সময়ে খুনের ঘটনা ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে ২ হাজার ৬৫৯টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুনের ঘটনা কমেছে ২৫৪টি। দাঙ্গার ঘটনা ৬২টি থেকে কমে হয়েছে ১৭টি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে ৮ হাজার ৯৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে হয়েছে ৩ হাজার ১৫১টি। এ ছাড়া অপহরণের ঘটনা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বরেও কমেছে অধিকাংশ অপরাধ
চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের পরিসংখ্যানেও অধিকাংশ অপরাধের সংখ্যা কমার চিত্র পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির ঘটনা ছিল ১৭১টি, যা চলতি বছরের একই সময়ে কমে ১২৩টিতে দাঁড়িয়েছে। দস্যুতার ঘটনা ৫১১টি থেকে কমে হয়েছে ৪৬৭টি।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি গঠন হচ্ছে সারাদেশে
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দেশের সকল উপজেলায় ইউএনও-কে সভাপতি ও থানার ওসিকে সদস্য-সচিব করে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এই তথ্য জানান। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, নারীদের উত্ত্যক্ত করা দেশের যেকোনো এলাকায় এমন অপরাধ ঘটলে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ নাম আসছে। অথচ এক যুগ আগেও পাড়া-মহল্লাকেন্দ্রিক অপরাধের ঘটনায় নাম আসত কোনো না কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর। এখন সে জায়গা ‘দখল করেছে’ কথিত কিশোর গ্যাং। যদিও এসব বাহিনীর সদস্যদের বেশির ভাগই ১৮ বছরের বেশি বয়সী। সারাদেশের প্রতিটি নগরে বিভিন্ন নামে কিশোর গ্যাং চক্র গড়ে উঠছে, যারা খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়াচ্ছে। নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষ-মারামারিতে জড়াচ্ছে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে মূলত এলাকায় কোন গ্যাংয়ের প্রভাব বেশি থাকবে-এ নিয়ে দুই পক্ষে বিরোধ দেখা দেয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে গ্যাংগুলো। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকা-ে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসার পর কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হয়।
এরপর কুমিল্লা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় থানা ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অনেকে আটক হন। পরে আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক, বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকা, গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন অবস্থার মধ্যে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সারাদেশে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
