সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার জেরে গত তিন দিনে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পাঁচ হাজারের বেশি যাত্রী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে।
বেবিচকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট উভয়ই বিঘ্নিত হয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি নিয়ে মোট ১২টি সরাসরি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
এছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি, ফ্লাই দুবাইয়ের পাঁচটি নিয়ে মোট ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট ৫১টি, যার মধ্যে ১২টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট। এসব ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী।
এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এছাড়া হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত হন আরও অন্তত ৩০৯ জন।
সর্বশেষ রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ফের ওই বিমানবন্দরে হামলা চালায় হুতি। এ ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন ১১ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক পাইলটসহ তিন সৌদির নাগরিক নিহত হন।
হুথিরা ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকেও টার্গেট করে হামলা চালায়। এতে ওই পাইলটের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। হুতিরা এক্ষেত্রে রিয়াদ বিমানবন্দরকে সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত করেছে।
তারা এর আগে সতর্কতা দিয়েছিল, যদি কোনো বিমানসংস্থা সৌদির আকাশ দিয়ে বিমান চালায় তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেই হুমকির পরই গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়।
হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ১২ অক্টোবর (সোমবার) পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। রোববার ও সোমবার মিলিয়ে ৬ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
