নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন সাবেক বিশ্বসেরা টেনিস খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা। রোববার তিনি বলেছেন, তার তিন বছর বয়সী মেয়ে যদি তাকে টেনিস ছেড়ে দিতে বলে, তাহলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
জাপানের চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী ওসাকা মেয়ে শাইয়ের জন্মের পর টেনিস থেকে ১৫ মাস দূরে ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি আবার কোর্টে ফেরেন।
এ সপ্তাহে প্যান প্যাসিফিক ওপেনে খেলতে টোকিওতে রয়েছেন ওসাকা। মা হওয়ার পর তার জীবনের অগ্রাধিকার অনেকটাই বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তার অবস্থান ১৯তম।
ওসাকা বলেন, ‘আমি বলব না যে টেনিস এখন আমার পেশা নয়। তবে আমার পুরো দিনটা আর টেনিসকে ঘিরে কাটে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা কঠিন। মাঝে মাঝে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ভাবি, আর কত দিন খেলব। কারণ, আমার মেয়ে যদি বলে যে সে চায় না আমি এত বেশি ভ্রমণ করি, তাহলে আমি তার কথা উপেক্ষা করার মতো মানুষ নই।’
মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে ২০২১ সালেও টেনিস থেকে বিরতি নিয়েছিলেন ওসাকা। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার চিন্তাভাবনায় অনেক পরিবর্তন আসছে।
‘আমার মেয়েই আমার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার,’ বলেন তিনি।
‘টেনিসে যতটা সম্ভব শক্তি ও মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করি। বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, বর্তমানে আমি যেখানে আছি, তা নিয়ে সত্যিই গর্বিত। কারণ, খেলাটির পেছনে পুরোটা সময় দেয়ার সুযোগ আমার নেই।’
একজন খেলোয়াড় ও মা হিসেবে দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি তিনি ‘ধীরে ধীরে শিখছেন’ বলেও জানান ওসাকা।
এ মাসে চায়না ওপেনে অনলাইনে ‘ভয়াবহ’ মাত্রায় বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফ। তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ওসাকা।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় গফ বলেছিলেন, এ অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে বেশ ক্লান্ত করে তুলেছিল।
জাপানি মা ও হাইতিয়ান বাবার সন্তান ওসাকা বলেন, ‘কারোই এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এটা দুঃখজনক। তবে আমার নিজের ক্ষেত্রে আমি এসবের সাথে অভ্যস্ত। আমার মনে হয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই আমাকে এসবের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমার কিছু সিদ্ধান্তে কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি কঠিন।’
নারী টেনিসের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডব্লিউটিএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি বন্ধে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলো কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে বলে মনে হয় না বলেও মন্তব্য করেন ওসাকা।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, কেউ কেউ বলে, এসব যদি তোমাকে এতটাই বিরক্ত করে, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোরো না। কিন্তু কখনও কখনও ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। আমার ক্ষেত্রে আমি যা করি, তা হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় যাই না।’
টোকিওতে সপ্তম বাছাই ওসাকা প্রথম রাউন্ডে ইতালির জেসমিন পাওলিনির মুখোমুখি হবেন। নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে খুব বেশি দূরে নেই বলে মনে করেন ওসাকা। আগামী বছর নিয়ে তিনি আশাবাদী বলেও জানিয়েছেন।
