সন্তানের ঈমান রক্ষায় মাতা-পিতার ৩ করণীয়
-
ইসলাম ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৪১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যম আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি বদলে দিয়েছে চিন্তা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক যোগাযোগের ধরন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিনোদন ও নানা ধরনের কনটেন্টের অবাধ প্রবাহে মানুষের জ্ঞান ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার যেমন খুলেছে, তেমনি অশালীনতা, বিভ্রান্তি ও মূল্যবোধের সংকটও তৈরি করেছে; বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সামনে এখন এমন অনেক কিছু খুব সহজেই হাজির হচ্ছে, যা তাদের মানসিকতা ও চরিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কাই বেশি রাখে।
এ বাস্তবতায় সন্তানদের ঈমান, নৈতিকতা ও আত্মপরিচয় রক্ষায় মাতা-পিতার দায়িত্ব আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিম্নে এমন পরিস্থিতিতে মাতা-পিতার করণীয় তুলে ধরা হলো—
১. পারিবারিক শিক্ষায় জোর দেওয়া : সন্তানের চরিত্র গঠনের প্রথম ও সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান পরিবার। তাই ইসলামে সন্তানদের শুধু ভরণ-পোষণ নয়, তাদের ঈমান ও নৈতিকতার দিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে বাঁচাও, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকুল, আল্লাহ তাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তার অবাধ্য হয় না।
আর তারা তা-ই করে যা তাদেরকে আদেশ করা হয়।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)
পরিবারের এই দায়িত্ব মা-বাবা উভয়ের। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক। আর প্রত্যেকেই তার অধীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।
নেতা (ইমাম) একজন রক্ষক, সে তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে তার পরিবারের লোকজন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক, তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪০৯)
২. সন্তানের সামনে সংযত আচরণ করা : সন্তান শুধু মা-বাবার কথা শুনে শেখে না; তাদের আচরণও গভীরভাবে অনুসরণ করে। তাই তারবিয়াতের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নিজের জীবনেই ইসলামী আদর্শের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা। মহান অল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য—যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ২১)
শিশুর সহজাত প্রবণতা ও পারিবারিক প্রভাব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবাই তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৫৮)
৩. সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলা : বর্তমান সময়ে সন্তানকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা সমাধান নয়, বরং তাকে এমন ঈমান, জ্ঞান, বিবেক ও আত্মবিশ্বাস দিতে হবে, যাতে সে নানা প্রভাবের মধ্যেও সত্যকে চিনতে পারে। এ জন্য প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের ঘরে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুস্থ সীমারেখা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুগলের প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়, ছোট থেকেই তাদের স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখা।
এ ছাড়া কোরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানের প্রশ্ন ও সংশয়ের যৌক্তিক উত্তর দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মা-বাবা যদি নিজেদের জীবনেই ঈমান, সততা, শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সন্তানদের গড়ে তুলতে পারে, তাহলে এই মধুর সম্পর্ক জান্নাতেও স্থায়ী হবে; ইনশাআল্লাহ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সঙ্গে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোনো অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ২১)
আল্লাহ সবাইকে নিজ নিজ সন্তানের ঈমান রক্ষার তাওফিক দান করুক। আমিন।
ট্যাগস :
