সিলেটের কানাইঘাটে হত্যা মামলায় আসামি করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন বড় চতুল ইউনিয়নের পর্বতপুর-রতনপুর গ্রামের হোসেন আহমদ। এ মামলায় তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আহমদ বলেন, তিনি নিজে ২২ মাস ১৫ দিন, ছোট ভাই মাহমুদ আলী ২২ মাস, ভাতিজা আম্বিয়া সাড়ে তিন মাস এবং দুই ছেলে কামরুল ইসলাম তিন মাসের বেশি ও দিলদার হোসেন ছয় মাস ১১ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
হোসেন আহমদের অভিযোগ, তাঁদের বসতভিটার ২৪ শতক জমি থেকে উচ্ছেদ করতে এলাকার একটি প্রভাবশালী পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন সময় মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি জুমার নামাজের সময় তাঁর ছোট ভাই মাহমুদ আলীর ছেলে আম্বিয়া বাড়ির পার্শ্ববর্তী সিংগাহের নদীর ধারে বসে ছিল। এ সময় গ্রামের নজরুল ইসলাম ও তাঁর জামাতা সাইফুল ইসলাম গরু চুরির অভিযোগে আম্বিয়াকে ধরে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন। খবর পেয়ে মাহমুদ আলী সেখানে গেলে তাঁকেও দা, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হোসেন আহমদ ও তাঁর দুই ছেলে কামরুল ইসলাম ও দিলদার হোসেন সেখানে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রামবাসী তাঁদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হোসেন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে নজরুল ইসলামের বাড়িতে গ্রামবাসীর একাংশ গেলে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাম্মৎ আফিয়া বেগম তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।
হোসেন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি কানাইঘাট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। শুরুতে মারামারি, হামলা, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পরে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে গ্রামের আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তাঁর দাবি, তাঁরাও কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মামলার কারণে তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে থাকতে হয়েছে এবং বসতঘরে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাট ও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হোসেন আহমদ।
হোসেন আহমদ বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। মামলায় মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কয়েকজন বাদীনির সঙ্গে আপস করে খালাস পেতে পারেন। হোসেন আহমদ নিজেকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নির্দোষ দাবি করেন। তিনি ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
শেয়ার করুন

