ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রকাশি হয়েছে জোর প্রতিযোগিতা। আসনটিতে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে অন্তত ৭০ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সিংহভাগই সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেত্রী। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন স্তরের নেত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া হেভিওয়েট বিএনপি নেতাদের স্ত্রী ও কন্যারাও যুক্ত হয়েছেন মনোনয়নের এই দৌড়ে।
শুক্রবার (দিনটি নির্দিষ্ট থাকলে বসানো যাবে) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ফরম বিতরণ করা হয়। সকাল থেকেই কার্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সারা দিন ধরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন। মনোনয়ন ফরমটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার টাকা।
বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বে থাকা তারিকুল ইসলাম তেনজিং যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া যাবে। এজন্য জামানত হিসাবে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের।
ফরম বিতরণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। ছিল নেতাকর্মীদের স্লোগান, বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন পাওয়ার হিসাবনিকাশ নিয়ে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী এক আসনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির নেত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।
এদিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ। এছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস এবং ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা ফরম সংগ্রহ করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তৎকালীন সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।