শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে আনন্দময়, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম।
তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী, খরনা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, কেলিশহর ও ধলঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং পূজারী, আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে এমপি এনামুল হক এনাম বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি মহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে সব ধরনের সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
এমপি এনাম বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো নাগরিক ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হবেন না। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বদরবারে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মফজল আহমদ চৌধুরী, মঈনুল আলম ছোটন ও সাইফুদ্দিন আহমেদ, উপজেলা বিএনপি নেতা আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা তাপস কুমার দে, দীলিপ ঘোষ দীপু, মাস্টার শ্যামল কান্তি দে, পুলক চৌধুরী ও আহ্বায়ক সুকান্ত তালুকদার।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হাইদগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন জামাল, কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, মোহাম্মদ ইছাক, কেলিশহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল আলম মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, এডভোকেট আরিফুর রহমান তারেক, আবদুল করিম মেম্বার, ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম হোসেন নয়ন, পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য নিখিল দে, রাজীব সেন, রাসেল চৌধুরী, বিকাশ দাশ বিষু, তাপস চৌধুরী, দেবাশীষ দে, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় দে, রিগান নন্দী, জুয়েল দাশ ও যাদব সর্দারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
