আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো : ভিডিও বার্তায় শাহজালাল রুমি
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার ঘটনার পর একের পর এক হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি। তবে কোনো হুমকিতেই পিছু হটবেন না জানিয়ে তিনি সাফ ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।”
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ছয় মিনিটের ওই ভিডিওতে তিনি ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, হুমকি এবং তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলা নানা অপপ্রচারের কড়া জবাব দেন।
ভিডিও বার্তায় শাহজালাল রুমি দাবি করেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মামলা তুলে নিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে এসে ক্ষমা চাইতে তাকে ক্রমাগত চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকাল থেকে এই পর্যন্ত কন্টিনিউয়াসলি আমাকে তারা লাইফ থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে। আমি যেন মামলা উঠিয়ে নেই, আমি যেন লাইভে এসে মাফ চাই। শুনে রাখো -এটা হবে না। আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো। নট অনলি আমি, আমরা- আমরা বাংলাদেশ, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো।”
শিক্ষককে চড় মারার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি কোনো আলেম বা পেশাকে আঘাত করেননি। রুমি বলেন, “থাপ্পড় দিয়ে আমি আলেমকে অপমান করি নাই, থাপ্পড় দিয়ে আমি কোনো শিক্ষককে অপমান করি নাই। আমি একজন দুশ্চরিত্র লম্পটকে থাপ্পড় দিয়েছি। সমাজের মানুষ এদের থাপ্পড় দিয়ে সোজা করে ফেলবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজ মুখেই শিশুটির সাথে জোরাজুরি ও অশালীন আচরণের কথা স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার পর শিশুর নানার বাড়িতে গিয়ে মাফ চেয়েছেন, সেখানে কীভাবে কিছু মানুষ না জেনে-বুঝে অপরাধীর পক্ষে সাফাই গাইছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির আড়ালে অপরাধীকে বাঁচানোর সব চেষ্টা মানুষ ধরে ফেলেছে।
ভিডিওতে শাহজালাল রুমি নিজেকে একটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে জানান, প্রকৃত ও ভালো আলেমদের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু কিছু দুশ্চরিত্র ব্যক্তি এমন নিকৃষ্ট কাজ করে পুরো আলেম সমাজের সম্মান ধূলিসাৎ করছে। যারা সামাজিক মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে গালিগালাজ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যকে অন্যায়ভাবে গালি দেওয়া কোনো ধর্মীয় শিক্ষার অংশ হতে পারে না।
আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি আইনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধাশীল। যা কিছু হবে, এখন আইনের মাধ্যমেই হবে। সে (অভিযুক্ত শিক্ষক) যেন কোনোভাবেই জামিন না পায়, সেজন্য আমরা সবাই কাজ করছি।” ভিডিওর শেষভাগে আবেগাপ্লুত হয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাকে হারায়ে যাইতে দিয়েন না।”
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ‘ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। শিশুর পরিবার মাদ্রাসায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড় মারেন রুমি। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতা শিক্ষককে মারধর করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার পাশাপাশি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও ভাঙচুর ও টাকা লুটের পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
