প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার · ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন
দুর্গাপূজার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। অথচ মৌলভীবাজারের অনেক চা-বাগানের শ্রমিক এখনো উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও প্রাপ্য অর্থের চেয়ে কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ। সংগঠনটির দাবি, উৎসব বোনাসের নামে কোথাও কোথাও কর্মস্থলে উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার কথা। অথচ এখনো মালনীছড়া ও রাজনগরসহ অনেক চা-বাগানের শ্রমিকদের বোনাস দেওয়া হয়নি। কয়েকটি বাগানে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
চা-শ্রমিক সংঘের অভিযোগ, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানে শ্রমিকদের পূর্ণ উৎসব বোনাস দেওয়া হচ্ছে না। এর পরিবর্তে কর্মস্থলে উপস্থিতির ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ১৯৬ টাকা ৮০ পয়সা মজুরি ধরে ৫৫ দিনের মজুরি হয় ১০ হাজার ৮২৪ টাকা। এর ৬০ শতাংশ হিসাবে একজন শ্রমিকের উৎসব বোনাস পাওয়ার কথা ৬ হাজার ৪৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। তবে বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকদের এর চেয়ে কম অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, শমশেরনগর চা-বাগানের শেফালী রেলীকে ৪ হাজার ৮৭০ টাকা, চাতলাপুর চা-বাগানের সাবিত্রি নাউড়কে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং দেওছড়া চা-বাগানের রামনারায়ণ গৌড়কে ৩ হাজার ২৪৭ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২(২ক) ধারা, বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা, ২০১৫-এর ১১১(৫) বিধি এবং ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা-শিল্পের নিম্নতম মজুরির গেজেট অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসব বোনাস দেওয়ার বিধান রয়েছে। তারা জানান, এসব বিধানে কর্মস্থলে উপস্থিতির শর্তে উৎসব বোনাস দেওয়ার কথা বলা হয়নি।
এ ছাড়া আইন ও চুক্তি অনুযায়ী ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের সমান মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও অধিকাংশ চা-বাগানে তাঁদের কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
চা-শ্রমিক সংঘের নেতাদের অভিযোগ, বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, শ্রমবিধি ও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেটের বিধান মানছে না। দুর্গাপূজার আগে শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করায় তাদের উৎসবের প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
