Published on
:
2 min read
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধীরা। ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে দিল্লি। এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়াল নির্বাচন কমিশন। SIR-এর সময়ে ভোটার তালিকায় ভুল বা অসঙ্গতি ধরতে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল, তা RTI করে জানতে চেয়েছিলেন তেলঙ্গনার সমাজকর্মী মুজিব আইয়ুব। কিন্তু সেই উত্তর দিতে অস্বীকার করেছে কমিশন। তাদের দাবি, ‘এটা ট্রেড সিক্রেট।’
SIR-এ বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সেই সূত্রেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীরা। এর মধ্যেই ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের সময়ে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে RTI করেন মুজিব। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর এই প্রশ্নের জবাবে কমিশন বলে, ‘এই তথ্য বাণিজ্যিক ভাবে গোপনীয় (ট্রেড সিক্রেট) এবং মেধাস্বত্ব বিষয়ক। তাই প্রকাশ করা যাবে না।’
মুজিবকে উত্তর দিতে গিয়ে RTI আইনের ৮(১)(ডি) ধারার উল্লেখ করেছে কমিশন। এই ধারায় বাণিজ্যিক গোপনীয়তা, বাণিজ্যিক স্বত্ব ও মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রকাশে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কী ভাবে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, ভুল করে কারও নাম চিহ্নিত করা হলে তা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, চিহ্নিত তথ্য কোন আধিকারিকরা যাচাই করেন, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন মুজিব।
এই প্রশ্নগুলিরও কোনও সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয়নি কমিশন। তাদের বক্তব্য, RTI আইনে নথিভুক্ত তথ্য চাওয়া যায়, কিন্তু কোনও পদ্ধতি সম্পর্কে নতুন করে ব্যাখ্যা বা স্পষ্টীকরণ দিতে কমিশন বাধ্য নয়। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, SIR-এর জন্য কোনও নতুন সফটওয়্যার তৈরি করা বা কেনা হয়নি। ভোটার তালিকায় কারও নাম উঠবে, নাকি বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার নেন। এর জন্য তথ্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
ভোটার তালিকার অসঙ্গতি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নাম প্রকাশ করতেও অস্বীকার করেছে কমিশন। এই প্রশ্নের জবাবে RTI আইনের ৮(১)(জি) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনও তথ্য প্রকাশের জন্য যদি কারও জীবন বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তা হলে তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা যেতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, সেই নিয়ে মুখ খুলতে চাইল না কমিশন।
