গালওয়ান সংঘাতের স্মৃতি কি আবার ফিরছে? এমন সম্ভাবনাই উসকে দিলেন আইটিবিপির ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর। তিনি সাফ জানিয়েছেন, গত চার মাস ধরে অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় চিনা বাহিনীর সঙ্গে ভারতের রীতিমতো ধুন্ধুমার চলছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের বেশ কিছু এলাকায় টহল দিতেও বাধা দিচ্ছে চিনা বাহিনী। এমনকি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ভারতে এসেছেন তখনও এই অস্থিরতা ছিল বলেই জানিয়েছেন শত্রুজিৎ।
ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে শত্রুজিৎ বলেন, “গত কয়েকমাসে অরুণাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় চিনের সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি সংঘাত হয়েছে। সেসব এখনও চলছে। তবে আমাদের নতুন শৌর্য কমান্ডোরা দারুণ কাজ করেছে এই সময়ে।” প্রসঙ্গত, জুলাই মাসে অরুণাচলের বিরোধী দল পিপলস পার্টি অফ অরুণাচলের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও এই একই কথা বলেছিল। তারা জানিয়েছিল, ভারতীয় ফৌজের টহলে বাধা দিচ্ছে চিন। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই কথা নাকচ করে দেয়।
জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘাত জারি রয়েছে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত। অথচ সেই সময়েই ব্রিকস সম্মেলনে দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন জিনপিং। বৈঠক হয় দু’জনের। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। সীমান্তে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে, এমনটাই বারবার তুলে ধরা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
এহেন পরিস্থিতিতে আইটিবিপির ডিজি যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, সেই নিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের তোপ, আইটিবিপির ডিজি যখন চিনের সঙ্গে সংঘাতের কথা বলছেন তখন প্রধানমন্ত্রী চুপ। সীমান্তে শান্তি ফেরাতে কোর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছিল সেপ্টেম্বর মাসে, সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্নও তোলেন জয়রাম। প্রসঙ্গত, অতীতে একাধিকবার অরুণাচল প্রদেশের নানা এলাকার নামকরণ করেছে চিন। সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে না দেখিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যবর্তী আলাদা অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের মানচিত্রে। এবার প্রকাশ্যে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
