ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবরোধ তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির শত শত মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করতে সহায়তা করেছে এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মধ্যে বেতন পরিশোধের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান।
এই পদক্ষেপগুলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত ৩৮ দিনব্যাপী মার্কিন সামরিক অভিযানের পর নেয়া বৃহত্তর একটি অভিযানের অংশ। এর লক্ষ্য হলো, ইরানের সামরিক বাহিনীর অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানাগুলো পুনর্নির্মাণ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মিলিশিয়া ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেয়া।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন বাহিনী অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তেহরানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেগুলো হলো- তেল রপ্তানি, ডিজিটাল অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেতন পরিশোধ।
তিনি রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ইরানকে অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা থেকে বিরত রেখেছি।
কমান্ডার বলেন, এই অর্থ অন্যথায় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলায় অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করা হতো।
সেন্টকম মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করতেও সহায়তা করেছে। এর ফলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা কিংবা মার্কিন অভিযানে ধ্বংস হওয়া অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো প্রতিস্থাপনের জন্য তেহরানের সক্ষমতা আরও সীমিত হয়েছে।
কুপারের মতে, এই আর্থিক চাপের প্রভাব ক্রমেই ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, যার মধ্যে আইআরজিসির সদস্যরাও রয়েছেন, তাদের বেতন পরিশোধের সক্ষমতার ওপর পড়ছে।
তিনি বলেন, তেহরান তেল, জ্বালানি, উৎপাদন, নির্মাণ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীদের বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আটকে রাখছে।
আর্থিক সংকটের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব গোষ্ঠীর কিছু নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে রেখে সেই অর্থ আইআরজিসির জন্য বরাদ্দ করছে।
কুপার বলেন, আইআরজিসি নিজেও তার সদস্যদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তার ভাষায়, এসব ঘটনা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান আর্থিক দুরবস্থার প্রমাণ।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। এই অবরোধের বিধিনিষেধের একমাত্র ব্যতিক্রম হলো অনুমোদিত মানবিক সহায়তা।
তিনি বলেন, বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলতে চাই, আমরা যে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি, তা ছাড়া ইরানের সমুদ্রপথে কোনো রপ্তানি নেই এবং কোনো আমদানিও নেই।
