৫০-৬০ জনের অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর ও নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার দাবি; থানায় এজাহার
রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলা, ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় দেওয়া এজাহারে উল্লেখ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইনামুল হাসান। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে তিনি এজাহার দিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দেয়াল টপকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছিল। এ সময় লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তাঁরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অনুপ্রবেশকারীরা নিরাপত্তাকর্মী পলাশ, আশরাফুল এবং অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ইনচার্জ রব্বানীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের দ্রুত প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে বলা হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত লায়ন্স ক্লাবের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। হার্ডডিস্কটির আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
অধ্যক্ষের দাবি, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার এবং বাধা দিলে খুন-জখম করার হুমকি দেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আগেও থানায় জিডি করেছিলেন অধ্যক্ষ
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। জিডি নম্বর ১৫৭০ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DX7731।
ওই জিডিতে লায়ন্স ক্লাব রংপুরের একটি স্বঘোষিত কমিটি গঠন এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবিসংবলিত একটি নোটিশ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি, আগের জিডির পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় এজাহার দেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
এজাহারে সাক্ষী হিসেবে শুভ চন্দ্র দাস, মো. মোবাশ্বের আলী, আবুল কাশেম ও ফরিদা আক্তারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আহত নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইনামুল হাসান। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
The post রংপুরে লায়ন্স ইন্টা: ক্লাব ও লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলা-ভাঙচুর, হার্ডডিস্ক চুরির অভিযোগ সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন appeared first on দৈনিক আমার সময়.
