স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, দীর্ঘতম সরকারি ছুটি এবং কঠোরতম নিরাপত্তার সমন্বয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। সারা দেশে এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উপাসনা করার অধিকার সংবিধানে স্পষ্টভাবে স্বীকৃত।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে, প্রতিটি মানুষের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্বাধীন দেশে নিজের ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য আলাদা করে নিরাপত্তা চাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (NTMC)-এর বিশেষ অ্যাপটি এবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তদারকিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ও অ্যাপস ব্যবহারের জন্য জেলা স্তরে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীসহ (ডিএমপি) দেশজুড়ে পুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জন এবং বিসর্জন শোভাযাত্রা যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য বিশেষ ট্রাফিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা, গুজব বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল করে জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
