কুনুর নদীর জলে বিষক্রিয়ার অভিযোগে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানে। গত তিন দিন ধরে আউশগ্রাম এবং সংলগ্ন এলাকায় কুনুরের জলে মাছ মরে ভেসে উঠছে। কালো হয়ে গিয়েছে নদীর জল। পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশে। কার্য এবং কারণ খুঁজতে শুক্রবার অকুস্থলে গিয়েছিল প্রশাসনিক প্রতিনিধি দল। তাদের পরামর্শ, আপাতত কেউ যেন কুনুরের জল ব্যবহার না করেন।
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার পাশ দিয়ে কিলোমিটার পাঁচেক জুড়ে বয়ে গিয়েছে কুনুর নদী। ভৌগলিক ভাবে অজয়ের জলের উচ্চতা কুনুরের থেকে বেশি। তাই প্রায় প্রতি বর্ষায় গুসকরার বসতপুরের কাছ দিয়ে অজয়ের জল কুনুর হয়ে ঢুকে পড়ে শহরে। কিন্তু তখনও এমনও পরিস্থিতি তৈরি হয় না বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়েরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আউশগ্রাম এবং কাঁকসা সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ইথানল কারখানার বর্জ্য নদীতে মেশার পর থেকেই দূষণ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। বৃহস্পতিবার নদীতে মাছ ধরার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। জলের মধ্যে খাবি খেতে থাকা মাছের পাশাপাশি মরে ভেসে ওঠা মাছও সংগ্রহ করে নিয়ে যান অনেকে। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শুক্রবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক কর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, আপাতত নদীর জল যেন কেউ ব্যবহার না করেন। মাছ খাওয়াও বারণ।
অন্য দিকে, গুসকরা সংলগ্ন বাবুরবাঁধ গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ, মনিরুল শেখরা জানান, এলাকার বহু মানুষ এখনও নানা নিত্যকাজে নদীর জল ব্যবহার করেন। স্নান করা থেকে বাসনপত্র ধোওয়া, সবেতেই ভরসা কুনুর নদীর জল। বিগত কিছু দিন ধরে বহু মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রচুর গবাদি পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাই স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা। বাসিন্দাদের দাবি, দূষণের উৎস চিহ্নিত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।
প্রশাসনিক দল অবশ্য বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আধিকারিকেরা। সকলের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত কুনুর নদীর মাছ না খাওয়া এবং নদীর জল দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। পূর্ব বর্ধমান জেলা মৎস্য বিভাগের সহ-অধিকর্তা শুভব্রত চট্টোপাধ্যায়, বন বিভাগের জেলাস্তরের আধিকারিক মলয়কুমার মাল এবং আউশগ্রাম-১ ব্লকের বিডিও বিমান কর গুসকরা ও সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় কুনুরের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন। নদীর জল এবং কয়েকটি মাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। মৎস্য বিভাগের আধিকারিক শুভব্রত বলেন, ‘‘ঠিক কী কারণে নদীর জলে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের পরীক্ষাগারে জলের নমুনা পাঠানো হবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাবরেটরিতেও নমুনা পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত কুনুর নদীর মাছ খেতে এবং নদীর জল দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হচ্ছে।’’
