তাড়াইলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ-তোষকের বাজার। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাতে দোকানগুলোয় ভিড় করছেন ক্রেতারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে তুলার দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা হওয়ায় বেড়েছে খরচ। ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানান ব্যবসায়ী ও কারিগররা। হেমন্তের শুরুতেই দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত হলেও আগেভাগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাচ্ছেন তারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোষক তৈরির কারিগর ও দোকানিদের। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সদর বাজারের বড় মসজিদ রোড এলাকার তুলার দোকান ও লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ মেয়ের সংসারের জন্য লেপ, তোষক ও বালিশ তৈরি করাতে এসেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগররা। জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের লেপ-তোষকের কারিগর মুহাম্মাদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের অলস সময় কাটাতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাসই তাদের মূল মৌসুম। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, তোষক ২০০, লেপে ২০০ ও জাজিম তৈরিতে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটেই এসব তৈরি করতে পারেন। প্রত্যেকে প্রতিদিন ৬-৭টি লেপ তৈরি করে প্রায় এক-দেড় হাজার টাকা আয় হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয়Ñ দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। রাউতি ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের আশরাফ বলেন, এবার কিছুটা আগেভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই পরিবারের জন্য লেপ-তোষক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন তারা। পাশাপাশি মেয়ের বিয়েতে লেপ-তোষক ও বালিশ কিনতে হচ্ছে। তবে তুলাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে। বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের ২-৩ মাস ব্যবসার মূল মৌসুম। এ সময় লেপ-তোষকের চাহিদা বাড়ে এবং কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করেন। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোষক বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।