ভোলার চরফ্যাশনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ শিকার, মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে একটি অসাধু চক্র নদীতে অবাধে ইলিশ শিকার ও পাচার করছে। এর মধ্যে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রায় ৮ বস্তা মা ইলিশ জব্দ করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ এবং পাচারের প্রস্তুতির অভিযোগে বরফভর্তি একটি গাড়ি আটক করে স্থানীয় জনগণ। পরে খবর পেয়ে গাড়িটি জব্দ করে শশীভূষণ থানা পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কুকরী-মুকরী থেকে আসা প্রায় ৮ বস্তা মা ইলিশ জব্দ করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির মাছ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি উপজেলা মৎস্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে। মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধিরা এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপরদিকে গতকাল গভীর রাতে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খজুরগাছিয়া এলাকায় বরফভর্তি একটি গাড়ি আটক করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। গাড়িটির নম্বর খুলনা মেট্রো-উ ১১-০০৭৭। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদী থেকে শিকার করা ইলিশ বিভিন্ন জেলায় পাচারের উদ্দেশ্যে গাড়িটি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
এদিকে, মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া মহনা থেকে কুকরী-মুকরীর দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্পিডবোট ব্যবহার করে গলাচিপা হয়ে ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে বিচ্ছিন্ন চর কুকরী মুকরী ইউনিয়নের অনেকে ডিপ ফ্রিজে ইলিশ মজুত এবং মাছ কেটে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের ভাষ্যমতে এসব ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহফুজ, মঞ্জু , মাহাবুব বকস ও আব্বাস বকসের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ বলেন, এখানে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছে, এটা সত্য। তবে আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরার বিষয়টি মঞ্জু, আব্বাস বকস ও মাহাবুব বকস ভালো জানেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের একটি অংশকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অবৈধভাবে ইলিশ শিকার, মজুত ও পাচারের কর্মকাণ্ড চলছে। তবে প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, জনবল কম থাকলেও আমরা সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করছি।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের বংশবিস্তার রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাতকরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ভাবে অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও চলছে কিছুটা ঢিলেঢালা অবস্থায়।
এ অবস্থায় চরফ্যাশনের নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান জোরদার, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
