গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন EARN প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ২ হাজার ২৪০ জন যুবক-যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের ‘বজ্রকণ্ঠ’ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবলু এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন উপজেলা ম্যানেজার মো. হারুন অর রশিদ। এ ছাড়া EARN প্রকল্পের উপজেলা এন্টারপ্রাইজ অফিসার মিথুন কুমার বণিক ও উপজেলা জব প্লেসমেন্ট অফিসার কুদরুতুল্লাহ ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। পরে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন EARN প্রকল্পের উপজেলা ম্যানেজার মো. হারুন অর রশিদ।
সভায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উপস্থিত ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
EARN-এর পূর্ণরূপ Economic Acceleration and Resilience for NEET। বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নীড পার্টনার হিসেবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বার্ডো (BERDO), যার সঙ্গে রয়েছে ব্র্যাকের সম্পৃক্ততা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে টুঙ্গিপাড়ার তরুণ-তরুণীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি।
