কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থান করেন। কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে বান্দরবানের লামার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে এক রাত ছিল সে। হোটেলের রেজিস্ট্রারে তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর; পরিচয় দেওয়া হয় রাজুর স্ত্রী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্ট্রার ও সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তারা। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছাড়ে। পরে রাজু তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন বলে তার এক সহকর্মীর বরাতে জানা গেছে।
হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেজিস্ট্রারে রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে হোটেল থেকে বের হতে দেখা যায়।
রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ১৭ দিন আগে তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয় হয়। পরে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনের কক্সবাজারে আসার জন্য রাজু বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে কুমিল্লায় ফেরার সময় ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট কেটে তাকে বাসে তুলে দেন, যার দাম ছিল ৯০০ টাকা।
ওই সহকর্মী আরও জানান, কুমিল্লায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালকের বিস্তারিত তথ্যও তাজমিন তাকে জানিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন টেলিভিশনে হত্যাকাণ্ডের খবর দেখে রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বলে জানান ওই সহকর্মী।
জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকেই রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে।
গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় তাজমিন। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রযুক্তির সহায়তা ও কললিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পুরো রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এএইচ
