সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে দুই সাবঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে চলমান দুটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে এ বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, অনুমোদিত বালুমহাল থেকে বালু সংগ্রহ না করে মৎস্যঘের ও জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের নোড়ার চক এলাকায় সালাম চেয়ারম্যানের দীঘিসংলগ্ন আফজালের একটি মৎস্যঘের থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সাবঠিকাদার ইবাদুল ইসলাম ও শহীদুল এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উত্তোলিত বালু চ্যাংমারি গেটসংলগ্ন আরশাদের বাড়ি থেকে নোড়ার চক মন্দির পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের বেড ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেন্ট্রাল হাইস্কুল, সুবর্ণাবাদ থেকে রঘুনাথপুর হয়ে সুনীলের বাড়ি অভিমুখে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমোদিত বালুমহাল থেকে বালু কিনে পরিবহনের পরিবর্তে সরাসরি ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় কমিয়ে ঠিকাদারি কাজের মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর উৎস, চুক্তির শর্ত ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মূল ঠিকাদারের সঙ্গে প্রতি ঘনফুট বালু ৯ টাকা দরে সরবরাহের চুক্তিতে ইবাদুল ইসলাম ও শহীদুল সাবঠিকাদার হিসেবে কাজ নিয়েছেন।
অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়া, জমি দেবে যাওয়া এবং আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মৎস্যঘের ও কৃষিজমির কাছাকাছি এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু-কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ছে কি না, তা সরেজমিনে পরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের অনুমোদন, প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাবঠিকাদার ইবাদুল ইসলাম জানান, তিনি ও শহীদুল সাবঠিকাদার হিসেবে বালু উত্তোলনের কাজের চুক্তি নিয়েছেন। ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের কোনো অনুমোদন নেই। তাঁর এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বালু উত্তোলনের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন শাহা মুঠোফোনে বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসনের আশ্বাসের পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি নিরূপণ এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
The post দেবহাটায় সড়ক নির্মাণে অবৈধ বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে জনপদ appeared first on ভোরের চেতনা.
