মহম্মদ আসলাম ও ফারহানা।ছবি: X
Published on
:
2 min read
স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী। গুরুগ্রামের M3M The Marina আবাসনের একটি ফ্ল্যাট থেকে বুধবার এক দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ বছর বয়সি মহম্মদ আসলাম (৩০) তাঁর স্ত্রীকে খুন করার পরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে। চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আসলাম তাঁর অফিসে একটি ইমেল করেন— ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি’। মর্মান্তিক বিষয় হলো, যে দিন তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়, সে দিনই ছিল আসলামের স্ত্রীর জন্মদিন।
মহম্মদ আসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফারহানা— দু’জনই Techie। তাঁরা কেরালার বাসিন্দা এবং তিন মাস আগে বেঙ্গালুরু থেকে গুরুগ্রামে আসেন। ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। শনিবার সেই ফ্ল্যাটের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় আসলামকে পাওয়া যায়। ফারহানা মেঝেতে নিষ্প্রাণ অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাঁর ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এক নজরে
মৃত আসলাম (আইআইএম ইন্দোর ও এনআইটি কালিকটের ছাত্র) এবং ফারহানা— দু’জনেই কেরালার বাসিন্দা এবং পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার। সম্প্রতি তিন মাস আগে বেঙ্গালুরু থেকে গুরুগ্রামে আসেন।
ফারহানার জন্মদিনের দিনই তাঁদের ফ্ল্যাট থেকে দেহ উদ্ধার হয়। ফারহানার জামার ওপর হাতে লেখা ছিল ‘I Love You’।
আসলাম তাঁর সংস্থায় ‘আমরা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি’ লিখে ইমেল করার পর অফিস থেকে ফ্ল্যাটের মালিককে জানানো হয় এবং তিনি এসে ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে ৩টি ল্যাপটপ, ২টি মোবাইল, কাঁচি, দড়ি, ডায়েরি ও পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
আসলাম দীর্ঘদিন মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। কাজের চাপের পাশাপাশি সব দিক খোলা রেখেই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছ পুলিশ।
ফারহানার পোশাকের উপরে হাতে লেখা ছিল ‘I Love You’। দম্পতির দেহ প্রথম দেখতে পান তাঁদের বাড়ির মালিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসলামের অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল তাঁর বাড়ির মালিকের সঙ্গে। তার পরেই আসেন তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তিনটি ল্যাপটপ, দু’টি মোবাইল ফোন, একটি দড়ি, একটি ডায়েরি, একটি কাঁচি এবং একটি পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করেছে। এগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আসলাম ফারহানাকে খুন করার পরে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আসলাম ও ফারহানার মধ্যে খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল। কোনও দিন তাঁদের মনোমালিন্য নজরে আসেনি বাড়ির লোকের। তবে আসলাম বছর দেড়েক ধরে মানসিক অবসাদের জন্য চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের লোকজনরা জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ সবদিক খোলা রেখেই তদন্ত করছে।
আসলাম ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (NIT) কালিকট এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (IIM) ইন্দোরের ছাত্র ছিলেন। ফারহানাও একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতেন।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক বিপর্যয়ে থাকলে সাহায্য নিন
Tele MANAS: 14416 / 1-800-891-4416
Lifeline Foundation: 033 24637401 / 033 24637432 | প্রতিদিন, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
NIBS Helpline: 033 2286 5603 | সোমবার থেকে শুক্রবার, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা