গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার অভিযোগ এবং এর জেরে বাবার হাতে শিক্ষককে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা আলোচনার প্রেক্ষাপটে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি শিশু সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং সামাজিক আচরণবিধি নিয়ে বিশদ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, শিক্ষক কিংবা রাজনৈতিক নেতা—কারও জন্যই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শোভন নয়। সন্তান প্রতিটি পিতা-মাতার কাছে এক পবিত্র আমানত; ফলে সেই সন্তানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হলে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অপরাধের দায় সামগ্রিক মাদরাসা ব্যবস্থার ওপর না চাপানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো অনুচিত। স্বয়ং ভুক্তভোগী শিশুর পিতাও তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন উল্লেখ করে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে দেশের মাদরাসা শিক্ষকেরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে এমন ঘটনার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
পোস্টে সামাজিক ও রাজনৈতিক আচরণের প্রভাব তুলে ধরে রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা জনসমক্ষে প্রকাশ্যে স্নেহ প্রকাশের যে চর্চা শুরু করেছেন, সামাজিক প্রেক্ষাপটে তা অন্যভাবে অনুসৃত হতে পারে। স্নেহবশত এমন আচরণ করা হলেও সমাজের সুবিধাবাদী ও অসৎ ব্যক্তিরা শিশুদের ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারের সুযোগ নিতে পারে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় প্রকাশ্যে এ ধরনের আচরণ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকে বিষয়টি নিয়ে আত্মোপলব্ধির আহ্বান জানান।
