মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবছর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এজেন্টদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে এবং নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট গঠন করতে হবে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকবে এ ইউনিটের ওপর।
এছাড়া প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি, মূল্যায়ন ও সুপারিশ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিটকে। প্রধান নির্বাহীর মতামতসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।
শাখা পর্যায়েও পরিপালন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শাখা ও ইউনিটে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। একইভাবে বিমা এজেন্টদের জন্যও এ সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়ন করতে হবে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, বিমা পলিসির লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।
গ্রাহক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বিমা পলিসি খোলা কিংবা পরিচালনা করা যাবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সত্তা এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সত্তার নামেও বিমা পলিসি খোলা বা পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় গ্রাহকের সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে শুধু পলিসিধারী নয়, পলিসির প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পক্ষে পলিসি পরিচালনাকারীকেও গ্রাহক হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বিএফআইইউ। দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
কে
