দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার দেশের পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের বড় পতন হয়নি। ব্যাংকের কল্যাণে সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেলেও লেনদেনের গতি কমে গেছে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।এর আগে ছুটি শুরু হওয়ার আগের কার্যদিবস ১৯ অক্টোবর পুঁজিবাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। অবশ্য তার আগে বাজারে অনেকটাই টানা দরপতন হয়। ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়নি। লম্বা ছুটি শেষে রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। তবে আধাঘণ্টার মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত দাম কমার ধারা অব্যাহত থাকে।
ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ১৭টি ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২টির দাম কমেছে। আর ১২টি ব্যাংকের শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৫টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৪টির দাম কমেছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৪টির এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২২টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৭১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। ১১ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মতিন স্পিনিং।এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—প্রিমিয়ার ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনালি আঁশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ফার কেমিক্যাল।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৬টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
