কালবেলা · general
পিরিয়ডের সময় আজানের জবাব দেওয়া কি জায়েজ?
১৪/১০/২০২৬

নির্দিষ্ট কয়েকটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে নামাজের দিকে আহ্বান করাই হলো আজান। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য মুয়াজ্জিন এ আহ্বান করে থাকেন। এটি ইসলামী জীবন পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজের যেমন গুরুত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি আজানেরও গুরুত্ব রয়েছে। এ জন্য যিনি আজান দেন, ইসলাম তাকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে সমাসীন করেছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের গোনাহ ওই পর্যন্ত মাফ করে দেওয়া হয়, যে পর্যন্ত তার আজানের আওয়াজ পৌঁছায় (অর্থাৎ যদি এত দূর পর্যন্ত জায়গা গোনাহ দ্বারা পূর্ণ হয়, তবু তার সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে)। এ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী ও নিষ্প্রাণ বস্তু, যারা মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাবে, সবাই তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।’ (আবু দাউদ: ৫১৫)
এদিকে, আজানের জবাব দিয়ে মুয়াজ্জিনের সমপর্যায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.), মুয়াজ্জিনরা তো আমাদের ওপর ফজিলত প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা কীভাবে তাদের সমান সওয়াব পাব?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘মুয়াজ্জিনরা যে রূপ বলে তুমিও তদ্রূপ বলবে। অতঃপর যখন আজান শেষ করবে, তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তুমিও তদ্রূপ সওয়াব প্রাপ্ত হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫২৪)
ফজিলতপূর্ণ এই আমল নারী-পুরুষ সবার জন্যই প্রযোজ্য। তবে, নারীদের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন জাগে যে, পিরিয়ড চলাকালে তারা আজানের জবাব দিতে পারবেন কি না।
এই প্রশ্নের সমাধান জানিয়েছে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইসলামী গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসার। পত্রিকাটির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পিরিয়ড চলাকালীন নারীরা আজানের জবাব দিতে পারেন। কারণ আজানের জবাব দেওয়ার জন্য পবিত্র অবস্থায় থাকা জরুরি নয়। পিরিয়ডের সময় নারীদের জন্য কোরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ হলেও দোয়া ও জিকির করা বৈধ। আজানের কালিমাগুলো উচ্চারণ করাও বৈধ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, বর্ণনা ১৩০২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৮; আলগায়া, সারূজী ২/২৫৭; উমদাতুল কারী ৫/১১৭; ফাতাওয়া নাবুলসী ১/৪১০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩)
উল্লেখ্য, আজানের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (মুসলিম: ৩৮৫)
তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময়ও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (তাবারানি: ৪৫৮)
মূল প্রতিবেদনে যান ↗