অভিযান চালাতে গিয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে অসাধু জেলেদের ধাওয়া করার সময় নৌ-পুলিশের একটি গতিশীল স্পিডবোট তলিয়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য হতাহত না হলেও স্পিডবোটে থাকা সরকারি একটি শটগান নদীতে পড়ে নিখোঁজ রয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনলের সটাকি লঞ্চঘাট এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসাইন জানান, সকালে নিষিদ্ধ সময়ে মেঘনায় মাছ শিকাররত জেলেদের আটক করতে স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে নৌ-পুলিশ। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা ধাক্কা লেগে স্পিডবোটটি নদীতে ডুবে যায়। বোটে থাকা সদস্যরা সাঁতরে উদ্ধার হতে পারলেও একটি শটগান নদীতে তলিয়ে যায়।
চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি উদ্ধার করে তীরের কাছাকাছি আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নিখোঁজ শটগানটি উদ্ধারে ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের বিশেষ ডুবুরি দল নামানো হয়েছে।
এদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মেঘনা ও পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলায় মোট ২৮ জন অসাধু জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও জেলা মৎস্য বিভাগ। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর নৌ-পুলিশের অভিযানে ১৪ জন, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ১০ জন এবং অন্যান্য ফাঁড়ির অভিযানে আরও চারজন জেলেকে আটক করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কাঠের নৌকা, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও বিপুল পরিমাণ মা ইলিশ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
