শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ দিয়ে জমি নামজারির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূমি প্রতারণার অভিযোগে ডামুড্যা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন মজিদ বেপারী (৭৫) নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে ইসলামপুর ইউনিয়নের এক নারী ওয়ার্ড সদস্যসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দাখিল করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দাড়াইশকাটি গ্রামের মজিদ বেপারীর ছেলে ছোরাব বেপারী প্রায় সাত বছর আগে মারা যান। বাবার দাবি অনুযায়ী, ছোরাব বেপারীর নামে তিনটি দলিলে মোট ৭.৫০ শতাংশ জমি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর বাবা-মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে—মোট সাতজন উত্তরাধিকারী হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বকুলা বেগম নামে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। এতে ছোরাব বেপারীর বাবা মজিদ বেপারী ও স্ত্রী কুনছুমা বেগমের নাম বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ৭১ নম্বর স্মারকমূলে দেওয়া ওয়ারিশ সনদে প্রকৃত ওয়ারিশদের নাম বাদ পড়ে। ওই সনদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে নামজারি করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন মজিদ বেপারী। এতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছেলের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এজাহারে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুবিনা বেগম এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক বা একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি করা সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
