ঈমানের অন্যতম হলো সৌন্দর্য নম্রতা। এটি মানুষকে আল্লাহতায়ালার প্রিয় করে, আবার দুনিয়ার দিক থেকেও মানুষের সম্মান বৃদ্ধি করে।
এই গুণের মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘সুতরাং আল্লাহর পরম অনুগ্রহ যে তুমি তাদের ওপর দয়ার্দ্র রয়েছ এবং যদি তুমি রূঢ় মেজাজ ও কঠিন হৃদয় হতে, তবে অবশ্যই তারা তোমার নিকট থেকে সরে যেত। সুতরাং তাদের দোষ ক্ষমা করো, আল্লাহর কাছে তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাও এবং কাজকর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো, অতঃপর যখন (কোনো ব্যাপারে) সংকল্পবদ্ধ হও, তখন আল্লাহর প্রতি ভরসা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের পছন্দ করেন।’ -সূরা আলে ইমরান: ১৫৯
এখানে মহান আল্লাহ নবী কারিম (সা.)-এর নম্রতার প্রশংসা করেছেন, আর এটি যে মানুষকে জয় করার একটি চাবিকাঠি, সেদিকেও ইঙ্গিত করেছেন।
নম্রতা হলো মানুষের এমন একটি মহৎ গুণ, যার মাধ্যমে মানুষ আচরণে অহংকার ত্যাগ করে নিজেকে শান্ত, সরল ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখে।
অন্যকে সম্মান করলে, নম্র আচরণ করলে মর্যাদা কমে যায় না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কেউ মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ করলে মহান আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করাতে সম্পদের হ্রাস হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা সমুন্নত করে দেন।’ -সহিহ মুসলিম: ৬৪৮৬
তাই আমাদের উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় নম্রতা অবলম্বন করা। বিনয় মানুষকে দুর্বল করে না, বরং দুনিয়াবাসী ও আসমানবাসী- সবার কাছে সম্মানিত করে। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের যে কয়টি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো- বিনয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম।’ -সূরা ফুরকান: ৭৭
মহান আল্লাহ সবাইকে বিনয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন।
