জেলা রাজস্ব বিভাগের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম। ছবি: খবরের কাগজ
-->লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮টি ভূমি অফিস থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুর জেলা রাজস্ব বিভাগের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলম।
অফিসপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তার চাহিদা। চাহিদামতো ঘুষের টাকা আদায়ে রাতের আঁধারে সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুই দফা সমঝোতা বৈঠক করেছেন তিনি। দাবি পূরণ না করলে অনিয়মের অভিযোগে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এ কর্মকর্তা। গত অর্থবছরেও জেলার ভূমি অফিসগুলো থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, জেলা শহরের পুরোনো শহিদ মিনার এলাকায় একটি একতলা ভবনে চলতি মাসের ৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা এবং ৬ তারিখ রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন অডিট কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম। বৈঠকে ঘুষের চাহিদা জানিয়ে সে অনুযায়ী সবাইকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে দু-একজন নিজ নিজ অফিসের বাস্তবতা তুলে ধরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন তিনি। অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং তা না দিলে লাখ টাকার অডিট আপত্তি দেওয়ার হুমকির বিষয়টি অডিও রেকর্ডে শোনা যায়।
আরও পড়ুন
এরই মধ্যে ৭ অক্টোবর একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অডিট করে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে অন্য অফিসে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অডিট না করেই এক সহযোগীকে নিয়ে সরে পড়েন এ কর্মকর্তা। তবে ১১ অক্টোবর থেকে অডিটের নামে আবারও আগের মতো ঘুষের জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও কুমিল্লা উত্তর অঞ্চলের অডিট সুপারিনটেনডেন্ট থাকাকালে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।
আরও পড়ুন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির এক নেতা বলেন, ‘অফিসপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত চাহিদা দিয়েছেন অডিট কর্মকর্তা। অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল। তার চাহিদা পূরণ না করলে নানা অজুহাতে ফাঁসিয়ে দেবেন। কিছুই করার নেই, আমরা অসহায়।’
অভিযুক্ত অডিট কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন বৈঠক ও ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি টাকা নিই। তবে তারা যতটা বলেছেন, আসলে তত টাকা নয়। এখানে অনেক বিষয় আছে। আমার ক্ষতি করে কী লাভ? আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন, আপনারাও অনেক সুবিধা পাবেন।’
রফিকুল ইসলাম/রিফাত/
