শারদোৎসবে সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে এবছর বেশ হইচই হয়েছে। স্টলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখার সরকারি ফতোয়া উপেক্ষা করেও এবার রেকর্ড সংখ্যক বই বিক্রি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। তার জন্য অবশ্য প্রচুর প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। দিকে দিকে বামপন্থীদের বুকস্টলে ভাঙচুর চলেছে। তারপরও ভাঙা স্টলে বই সাজিয়ে বিকিকিনিতে বেশ সাফল্য পেয়েছে কমরেডকুল। শুধু মার্কসীয় সাহিত্যই নয়, বিক্রি হয়েছে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বইও। এবার সেই বইকে হাতিয়ার করে ক্রিসমাস অর্থাৎ খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় উৎসবেও বিরাট পরিকল্পনা বামেদের। এ বিষয়ে সদ্যই আলিমুদ্দিনে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করে গেলেন খ্রিস্টান ধর্মের প্রতিনিধিরা।
সূত্রের খবর, সদ্য ক্রিস্টান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সেলিম বার্তা দিয়েছেন, বদলের বঙ্গে বড়দিনে চার্চের আশপাশে সাম্প্রদায়িক অশান্তির চেষ্টা হতে পারে। আক্রান্ত হতে পারেন সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরাও। তাঁদের সুরক্ষায় কমরেডরা প্রস্তুত থাকবেন। কলকাতার পার্কস্ট্রিট, বো ব্যারাক ছাড়াও ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট-সহ যেখানে বাঙালি খ্রিস্টানদের আধিক্য সেসব জায়গায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে জনসংযোগের জন্য বুকস্টল হয় সিপিএমের। যদিও সবচেয়ে বেশি হয় দুর্গাপুজোর সময়। তা নিয়ে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি বামেদের। কিন্তু ঘটনা হল, ইদ এবং ক্রিসমাসেও সীমিত পরিসরে বুকস্টল হয়ে থাকে সিপিএমের। তবে এবারের পুজোয় স্টল করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হল, তাকে হাতিয়ার করে ক্রিসমাসেও জনসংযোগে জোর দিতে চায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সূত্রের খবর, সদ্য ক্রিস্টান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সেলিম বার্তা দিয়েছেন, বদলের বঙ্গে বড়দিনে চার্চের আশপাশে সাম্প্রদায়িক অশান্তির চেষ্টা হতে পারে। আক্রান্ত হতে পারেন সংখ্যালঘু খ্রিস্টানরাও। তাঁদের সুরক্ষায় কমরেডরা প্রস্তুত থাকবেন। কলকাতার পার্কস্ট্রিট, বো ব্যারাক ছাড়াও ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট-সহ যেখানে বাঙালি খ্রিস্টানদের আধিক্য সেসব জায়গায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিপিএমের অন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতায় বড়দিনের সময় ৫ থেকে ৬টি বুকস্টল থাকে। এছাড়া ইদের সময় রাজাবাজার, পার্কসার্কাস, খিদিরপুরেও কমবেশি বুকস্টল দেয় সিপিএম। এবার তা আরও বিস্তৃত হবে। সেলিমের বার্তা অন্তত তেমনই। দুর্গাপুজো উপলক্ষে এবার তাদের বই বিক্রিতে বেশ ভালো আয় হয়েছে। আর সেটাই ফিকে লাল শিবিরে কিছুটা অক্সিজেন বাড়িয়েছে। তবে ক্রিসমাসে বুকস্টল দেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু বাণিজ্যিক লাভ নয়, বরং উৎসবকে কেন্দ্র জেলায় জেলায় জনসংযোগ বৃদ্ধি, মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেওয়াই মূল। রাজনৈতিক মহলের মত, বিজেপি সরকারের আমলে বামেরা যতটা বাধা পাচ্ছে, ততই নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণে সক্রিয় হয়ে মাঠে নামতে তৎপর।
