দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিগত ঘাটতি, আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা, তথ্যের অভাব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে দেড় লাখ পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তার মতে, পরিত্যক্ত ইভিএমগুলো সংরক্ষণের জন্য যেমন জনগণের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমনি এ খাতের ৯০ শতাংশের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করছেন অনানুষ্ঠানিক খাতের সংগ্রহকারীরা। অথচ তাদের স্বীকৃতি নেই, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায়ও নেই যথাযথ ব্যবস্থা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বুধবার চীন-মৈত্রী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস উপলক্ষে টিআইবি ও ডব্লিউইইই সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ইভিএম, যেটি কেনা হয়েছিল অত্যন্ত বিতর্কিত একটা বিষয়, কিন্তু সেটি এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে এখানে বাংলাদেশে ৪১ জেলায়, মোট নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১ লক্ষ ৫০ হাজার ইভিএম পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এটি কার মালিকানা, মানে কে ব্যবস্থাপনা করবে, কিভাবে করবে এর কোনো দিকনির্দেশনা নাই।
“এখন পুরোটা শুধুমাত্র ঝুঁকির সেটিই নয়, একই সময়ে যে যে জায়গাগুলোতে ৪১টা জেলায় এগুলো রাখা হয়েছে, সে জায়গাগুলোর ভাড়াও মাসে মাসে দিতে হচ্ছে। বিশাল ধরনের জিম্মি দশায় পড়ে গেছি আমরা।”
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিগত ঘাটতি, আইনের বাস্তবায়নে দুর্বলতা, তথ্যের অভাব এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে অভিয়োগ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “২০২১ এর একটা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রুলস বা বিধিমালা প্রণীত হয়েছে। দক্ষতার ঘাটতি বা সচেতনতার ঘাটতির কারণে বিধিমালায় যে বাধ্যবাধকতাগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।”
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সোলার প্যানেলগুলো কতদিনে বর্জ্যে পরিণত হবে, সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা করার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং ই-বর্জ্যের সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন রাজস্ব যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
সেমিনারে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপনা করেন টিআইবির সহযোগী গবেষক আবদুল্লাহ জাহিদ ওসমানী। এছাড়া আরও আলোচক ছিলেন, বিটিআরসির ডিরেক্টর জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন) শফিউর আজম পারভেজ, ডব্লিউইইই সোসাইটি বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সুমন আহমেদ সাবির।
