আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একদিকে ঢাকায় আয়োজিত আঞ্চলিক ফুটবল প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ড সফরে পরপর দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, দুই সূচির সংঘাতে সমস্যায় পড়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। প্রতিযোগিতার আগে ফুটবলারদের পাওয়া যাবে কি না এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে খেলানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ন'বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত রয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর মালদ্বীপ এবং ১১ নভেম্বর পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারতীয় দলের।
কিন্তু একই সময়ে ভারতীয় সিনিয়র দলের নিউ জিল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা থাকায় তৈরি হয়েছে সূচিগত সমস্যা। ১২ ও ১৫ নভেম্বর নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ভারতের। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হতে চলেছে এই ম্যাচগুলি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইছে না ভারতীয় ফুটবল মহল।
এই পরিস্থিতিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর কথা প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করেছিল এআইএফএফ বলে খবর। তবে সেই পরিকল্পনাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিফার আন্তর্জাতিক সূচি। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হবে আন্তর্জাতিক উইন্ডো, অথচ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে তার পাঁচ দিন আগেই। ফলে প্রথম দিকের ম্যাচগুলির জন্য ক্লাবগুলি ফুটবলারদের ছাড়তে বাধ্য নয়।
চলতি ভারতীয় সুপার লিগের মরশুমের মধ্যে ক্লাবগুলি তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের আগেভাগে ছাড়তে কতটা রাজি হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই শক্তিশালী দল নামানো এআইএফএফ-এর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এর পাশাপাশি রয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে খেলানোর অনুমতি পাওয়ার প্রশ্ন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফিফার টিয়ার-১ প্রতিযোগিতা হওয়ায় এর ফলাফল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলে। সেই কারণে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সূচি সেপ্টেম্বর থেকে সরিয়ে নভেম্বরে করা হয়েছিল। অথচ সেই নভেম্বরেই নিউ জিল্যান্ড সফরের সূচি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি হাইপ্রোফাইল প্রীতি ম্যাচের সূচির সঙ্গে সংঘাতের কারণে উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে ভারতের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে অক্টোবরে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনার কারণে সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়নি ভারত। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে এআইএফএফ-এর পরিকল্পনা তাই ফের প্রশ্নের মুখে।
ভারত ছাড়াও নেপালের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফিফার নির্বাসনের কারণে নেপালের প্রতিযোগিতায় খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতও সরে দাঁড়ালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দলবিন্যাসে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এখনও পর্যন্ত ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি এআইএফএফ। আঞ্চলিক শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য, নিউ জিল্যান্ড সফরের গুরুত্ব এবং ফুটবলারদের প্রাপ্যতা—সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফেডারেশনকে। সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ঢাকার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থাকছে।
