সুপ্রিম কোর্টের যৌথ হেফাজতের নির্দেশের পরেও নাবালক পুত্রকে নিয়ে রাশিয়ায় চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এ বার সেই রুশ নাগরিক ভিক্টোরিয়া বসুকে ভারতে প্রত্যর্পণের ব্যাপারে উদ্যোগী হল দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার সাকেত আদালতে জমা দেওয়া অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়াকে খুঁজে বার করে দেশে ফেরানোর জন্য বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের বাসিন্দা সৈকত বসুর সঙ্গে ২০১৭ সালে বিয়ে হয় রাশিয়ার নাগরিক ভিক্টোরিয়ার। দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লিতে বসবাস করেন সৈকত। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ নিজের মাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান ভিক্টোরিয়া। তখন তাঁদের সন্তানের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সন্তানের একক হেফাজত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিবাদ গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, বাবা ও মা দু’জনেই সমান ভাবে শিশুপুত্রকে নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন। কিন্তু অভিযোগ, ওই নির্দেশের পরেও ছেলেকে নিয়ে ভারত ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান ভিক্টোরিয়া। কী ভাবে যৌথ হেফাজতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশ ছাড়লেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সৈকতের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে দিল্লির ডিফেন্স কলোনি থানায় এফআইআর দায়ের হয়। সেই মামলাতেই বৃহস্পতিবার বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট দীপাক্ষী রানার আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় পুলিশ। সেখানে জানানো হয়েছে, মূল অভিযুক্ত ভিক্টোরিয়াকে দেশে ফেরানোর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি কার্যকর করতে বিদেশ মন্ত্রক ও মস্কোয় ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অভিযোগকারীর দেওয়া নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা যায়।
প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়েছে পুলিশ। ভিক্টোরিয়ার দেশত্যাগের ঘটনায় এক দূতাবাসকর্মীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হলেও তাঁকে কবে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
