উৎসবের মরশুমের আগে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণের মাত্রা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সোমবার বাজি ফাটানোর সঙ্গে ধর্মের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশগত উদ্বেগ উভয় বিষয় মাথায় রেখে তারা ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, উৎসব বা উপাসনা ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হতে পারে, কিন্তু বাজি ফাটানো নয়। আদালত জোর দিয়ে বলে যে, জোর করে বাজি নিষিদ্ধ করার চেয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধই এই সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারে।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, “ধর্মের সঙ্গে আতশবাজির সম্পর্ক কী?” সরকার পক্ষের আইনজীবীরাও যুক্তি দেন যে, বাজি ফাটানো ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের অংশ নয়। ঈশ্বর আরাধনা করা ধর্মের অঙ্গ হতে পারে, কিন্তু বাজি পোড়ানো কখনওই নয়। এই মামলার অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট অপরাজিতা সিং বলেন, বাজি ফাটানো একটি ধর্মীয় প্রথা- এই যুক্তি প্রতি বছরই বারবার উত্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, “ঈশ্বরের নামে বাজি ফাটিয়ে যদি শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কষ্ট পায়, তবে স্বয়ং দেবতারাও তাতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হবেন।”
সওয়াল শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, আদালত কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে না, তবে পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়েও সচেতন থাকবে। শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বাজি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং উৎসবের আবেগের মধ্যে একটি ভারসাম্যের নীতি অনুসরণের বার্তা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মত, কেবল কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই মানুষ তা মানতে চায় না, অনেক সময় তার উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাই সমাজ ও নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচেতন করে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। আদালত নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছে, উৎসব উদযাপনের জন্য তাঁরা যেন স্বেচ্ছায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প (যেমন গ্রিন ক্র্যাকার্স) বেছে নেন। প্রশাসনকে এই বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার সামগ্রী প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
