মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, কুমিল্লা :
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমিন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।
তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কুমিল্লাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যাওয়ার পর মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। পরে রাজু বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠালে তাজমিন কক্সবাজারে যায়।
কক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। পরদিন বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।
রাজুর এক সহকর্মীর বরাতে জানা যায়, কুমিল্লায় ফেরার পর অটোরিকশায় ওঠার সময়ও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়া নামের এক চালকের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে সে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাজমিনকে বাসায় না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে পরে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার আসামি চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
