চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কখনও সড়কের পাশে রাখা ট্রাকে, কখনও রাতের আঁধারে বসতঘরে আগুন দিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গত তিন সপ্তাহে পাঁচটি ঘটনায় তিনটি ট্রাক ও তিনটি বসতঘর পুড়ে গেছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। আগুনে পুড়েছে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গবাদিপশু, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, উৎসবের সময় এমন ঘটনায় তাদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। অন্যদিকে, এসব অগ্নিসংযোগের পেছনে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের পাশে রাখা একটি ডাম্প ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর তিন দিন পর, ২৫ সেপ্টেম্বর একই কায়দায় রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুণ্ডেশ্বরী এলাকায় একটি মিনি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়।
এরপর গত ১১ অক্টোবর রাতে উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাম দয়াল মাঝির বাড়িতে পৃথক তিনটি স্থানে একযোগে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের বসতঘর, গবাদি পশু, আসবাবপত্র, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরদিন ১২ অক্টোবর কদলপুর ইউনিয়নের আশরাফ আলী চৌধুরী হাটবাজারের সামনে হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের ওপর রাখা একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সর্বশেষ ডাবুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বণিকপাড়ায় মানিক চক্রবর্তীর পরিত্যক্ত ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত ওই এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়।
এমন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদুল আলম। জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর জেলা যুবদলের যোগাযোগ সম্পাদক সৈয়দ মো. তৌহিদুল আলম নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।
রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সিনিয়র সহসভাপতি প্রদীপ শীল বলেন, আমরা চাই, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদুল আলম বলেন, নাশকতাকারী বা নাশকতার পরিকল্পনাকারীরা অপকর্ম করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ঘরে আগুন লাগানো হয়েছিল। পুলিশের যত সক্ষমতা আছে, সব দিক থেকে চেষ্টা করব, যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। যেগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এ এলাকায় যাদের মাথায় দুষ্টুবুদ্ধি আছে, তাদের এসব বাদ দিতে হবে। তা না হলে আইনের কঠোরতম প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তাদের খুঁজে বের করা হবে। হিন্দু কমিউনিটির যারা আছেন, সবাই একসঙ্গে পরস্পরের সহযোগিতায় কাজ করলে দুষ্কৃতকারী বা নাশকতাকারীরা সাহস পাবে না।
