হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা দিতে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছরেও তা নবায়ন করা হয়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি কার্যকর না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেমিস্টার ফাইনালের এনরোলমেন্টের সময় স্বাস্থ্যবিমার নামে ২৭০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনতে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে কোনো বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালু নেই বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি সেমিস্টারে স্বাস্থ্যবিমার জন্য নির্ধারিত অর্থ নেওয়া হলেও অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় তারা বিমা সুবিধা পাচ্ছেন না। গুরুতর অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় চিকিৎসার প্রয়োজন হলে মেডিকেল সেন্টারের সীমিত সেবার বাইরে বড় ধরনের চিকিৎসা ব্যয়ে স্বাস্থ্যবিমা থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে ঢাকায় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের জানানো হয়, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা চুক্তি নেই। তবে নিজস্ব তহবিল থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য প্রথমে ৫০ হাজার ও পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সহায়তার অর্থ দেওয়ার আগেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্যবিমার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীকেই। তাদের দাবি, চুক্তি কার্যকর না থাকলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ কোন খাতে জমা ও এর বিপরীতে তারা কী সুবিধা পাচ্ছেন তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মাসুদুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যবিমার টাকা শিক্ষার্থীদের ফান্ডেই জমা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষে বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন চুক্তির পাশাপাশি গত দুই বছরে গ্রহণ করা অর্থের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করে দুর্ঘটনা ও গুরুতর অসুস্থতার সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।