Published on
:
2 min read
বাবলু সাঁতরা, চন্দ্রকোণা
২২৭ বছরের পুজোর ঐতিহ্য আজও বহন করে নিয়ে চলেছে চন্দ্রকোণার জাড়া জমিদার বাড়ি। বিদ্যাসাগর থেকে রাজা রামমোহন রায়ের মতো মণীষীদের যাতায়াত ছিল এই জমিদার বাড়িতে। মহানায়ক উত্তম কুমার অভিনীত 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' ছবির কবিগানের আসরের শ্যুটিং হয়েছিল এখানেই। আজও এলাকায় পা রাখলে জাড়া জমিদার বাড়ির নানা কাহিনী লোকমুখে শোনা যায়। তেমনই জনপ্রিয় এখানকার দুর্গাপুজোও।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রামগোপাল রায় ১৭৪৮-এ এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তাঁর ছেলে রাজীবলোচন রায়ের সময় থেকে এই জমিদারবাড়ির প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে। বর্ধমান রাজার কাছে তিনি 'রাজা' উপাধি পেয়েছিলেন। সংস্কৃত এবং পার্সি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন রাজীবলোচন। তিনিই প্রথম জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। সেই থেকে পূজো চলে আসছে। তবে এখন আর তার তেমন জৌলুস নেই। জমিদার বাড়ির বিশাল প্রাসাদ এখন অনেক জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। তবে এখনও ২১ টি পরিবার বসবাস করেন এখানে। পরিবারেরই অধিকাংশ সদস্যই কর্মসূত্রে ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে থাকেন। পুজোর সময়ে কিন্তু সকলে বাড়িতে ফেরেন।
পুজোর জন্য সেজে উঠছে জাড়া জমিদার বাড়ির দুর্গাদালানEi Samay
পরিবারের বর্তমান সদস্যরা জানিয়েছেন, এক সময়ে কবিগানের আসর বসত বাড়িতে। ঢাকের বদলে ঢোল-সানাই বাজতো। পুজোর দিনগুলিতে যাত্রাপালার আয়োজন হতো। লঙ্গরখানা খোলা হতো। রুপোর পালকিতে করে জমিদার বাড়ির পুকুরে শোভাযাত্রা করে নবপত্রিকা স্নান করাতে যাওয়া হতো। কবিগান, ঢোল-সানাই না বাজলেও আজও সমস্ত রীতিনীতি মেনেই পুজোর আয়োজন করেন পরিবারের সদস্যরা। বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। এই কয়েকদিন জমিদার বাড়ির মহিলাদের হাতের তৈরি ১৭টি পদ ভোগ দেওয়া হয়। বাড়ির মহিলাদের হাতে তৈরি নাড় নিবেদন করা হয় দেবীকে। পরিবারের সদস্যরা শোভাযাত্রা করে নবপত্রিকা স্নান করাতে যান। এখানে অষ্টমীতেই হয় সিঁদুর খেলা।
পুজোর দিনগুলিতে আশেপাশের গ্রামের মানুষজন ভিড় করেন জমিদার বাড়ির পুজোয়। তাদের জন্য খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। পুজোয় নরনারায়ণ সেবা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। জমিদার বাড়ির দুর্গা বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পীরা একচালার প্রতিমা গড়েন। পরিবারের সদস্য সমীরকুমার রায়, অভিজিৎ রায়রা বলেন, 'আচার, নিয়মনীতি সবই আগের মতো পালন করা হয়। জমিদার বাড়ির সদস্য মীরা রায় বলেন, 'নবপত্রিকা স্নান থেকে বিসর্জন পর্যন্ত মেয়েরাই মূল ভূমিকা পালন করেন। মায়ের পুজোর জোগাড়, ভোগ রান্না, নাড় তৈরি সবই আমরা নিজে হাতে করি।' পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিদার রাজীবলোচন রায়ের বন্ধু ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গেও তাঁর সক্ষ্যতা ছিল।
শোনা যায়, জমিদার বাড়ির আমন্ত্রণে জাড়া স্কুলের স্থাপনা করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে জাড়া জমিদার বাড়িতে বেশ কয়েকবার এসেছিলেন বিদ্যাসাগর। পরবর্তী উত্তমকুমার অভিনীত 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' ছবিতে কবিগানের দৃশ্যের শ্যুটিং হয়েছিল এই জমিদারবাড়িতেই।