স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ওই মহলটি আগে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এখন তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, তারা সংসদে এসে কথা বলুক। তাদের বক্তব্য শুনতে চাই। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনও কথা থাকলে আমরা তা গ্রহণ করতে রাজি আছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো করার জন্য সরকার কাজ করছে। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সব ধরনের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য তিনি জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে চান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আমি আবারও দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার জন্য সেই যুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সবার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই বছর আগে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তাতেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এখন সরকার আগামীর বাংলাদেশকে শান্তির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত নির্বাচনে আমরা জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। হয়তো কোনও অঞ্চলে আমরা জয়ী হয়েছি, কোনো অঞ্চলে হইনি। কিন্তু আমরা মনে করি, দেশের সব মানুষ আমাদের নির্বাচিত করেছেন, ভোট দিয়েছেন। সে কারণে দেশের সব অঞ্চলে সমভাবে উন্নয়ন করতে চাই।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে একনেকের সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুরের জেলা ও উপজেলাগুলোর অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়নে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে হাজারো নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক দেন। এ ছাড়া মন্দিরের দরিদ্র ও মেধাবী সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়তলা ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর সাহেব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
