Published on
:
2 min read
রূপক মজুমদার
১৯৪৬-এ কলকাতার রাস্তায় সেই ভয়াবহ দাঙ্গা, যা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ নামে, তা এ বার ফিরতে চলেছে পুজোমণ্ডপের থিমের হাত ধরে!
মৈত্রী সঙ্ঘের পরিচালনায় বর্ধমানের টিকরহাট সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মণ্ডপ জুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠবে ১৯৪৬-এর সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। পুজো কমিটির সম্পাদক স্বপন রায় বলছিলেন, ‘এই থিম ক্লাবের জুনিয়র সদস্যরা ঠিক করেছেন। আমরা সবটা শুনে সেটাকে মান্যতা দিয়েছি।’ উদ্যোক্তাদের দাবি, ইতিহাসকে তো অস্বীকার করা যায় না। তাকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন তাঁরা।
নিজস্ব চিত্রEisamay.com
কী ভাবে ফুটিয়ে তোলা হবে সেই সব দৃশ্যপট? স্বপনের ব্যাখ্যা, ‘মণ্ডপ জুড়ে শিল্পীর তুলির টানে ৮০ বছর আগের সেই মর্মান্তিক ইতিহাস ফিরে আসবে। সোরাবর্দি বাহিনীর আক্রমণে রক্তাক্ত কলকাতার পথঘাট, সার দিয়ে পড়ে রয়েছে নিথর দেহ, শকুন ছিঁড়ে খাচ্ছে সেই সব শব— এমনই হাড়হিম দৃশ্য মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে। লাইট প্রোজেক্টরের মাধ্যমে সেই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই থিমের আরও একটি আকর্ষণ গোপাল মুখোপাধ্যায়। যিনি ইতিহাসে গোপাল পাঁঠা নামেই বেশি পরিচিত। তিনি এবং তাঁর সঙ্গীদের সেই ভয়াবহ দাঙ্গার সময়ে প্রতিরোধমূলক ভূমিকার বিষয়ও উঠে আসছে এ বারের পুজোর থিমে।
নিজস্ব চিত্রEisamay.com
অনেকের কাছেই সেই অজানা ইতিহাস এখনও অধরা। টিকরহাটের এই মণ্ডপে এসে দর্শনার্থীরা কেবল দাঙ্গার ঘটনা নয়, বরং গোপাল মুখোপাধ্যায়ের মতো অকুতোভয় মানুষের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ সম্পর্কেও জানতে পারবেন। সেই সময়ের বিভিন্ন খবরের কাগজের কাটিং ও তথ্যপ্রমাণও মণ্ডপে রাখা হবে।’ পুজোর বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তারা সেই কারণে রাজ্য সরকারের থেকে এক লক্ষ টাকা অনুদান নেবেন। মূল প্রতিমা তৈরি হবে সাবেকি ধাঁচে। নিষ্ঠা মেনেই হবে পুজো।
