২০১৫ সালে, সুপ্রিম কোর্ট ‘কমন কজ’ বনাম ভারত সরকার মামলায় ঐতিহাসিক রায়ে বলে- সরকারি অর্থে নেতৃবর্গের ভাবমূর্তি নির্মিত হবে না।
‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। পণ্য বিক্রিতে বিজ্ঞাপন আছে, রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের আত্মপ্রচারের ঢক্কানিনাদ। যেখানে সেখানে বড় বড় হোর্ডিং-ব্যানার। যেখানে যুক্ত করে, হাস্যমুখে দেখা যায় নেতা-নেত্রীদের। দলীয় তহবিল ব্যবহার করে যে কেউ যত খুশি বিজ্ঞাপন ও প্রচার চালাতে পারেন। কিন্তু যখন সরকারি তহবিল অর্থাৎ জনগণের করের টাকা অপচয় করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তখন তা কতটা নৈতিক, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। এবং এই সমস্যা শুধু ভারত নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও।
যেমন আমেরিকা। সদ্য মার্কিন ফেডেরাল আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারমূলক টিভি বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডেরাল ডিস্ট্রিক্ট বিচারক জেনিফার এল, রশোন এই সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। নজরদারি সংস্থা ‘কমন কজ’-সহ একটি যৌথ মঞ্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মতামত প্রচার করতে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ, আমেরিকার ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’-র বাজেট থেকে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) মার্কিন ডলার করদাতাদের অর্থ বিজ্ঞাপনী প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তীব্র সমালোচনা এবং আইনি ধাক্কার মুখে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তীতে এই ধরনের বিজ্ঞাপনের খরচ সরকারি তহবিল থেকে না দিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক তহবিল থেকে মেটানো হবে।
২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘কমন কজ’ বনাম ভারত সরকার মামলায় একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। যেখানে POLTICS পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, সরকারি অর্থ খরচ করে কোনও নেতার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরি করা যাবে না।
সমরূপ প্রশ্ন উঠেছিল ভারতেও। এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাও রয়েছে। ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘কমন কজ’ বনাম ভারত সরকার মামলায় একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। যেখানে POLTICS পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, সরকারি অর্থ খরচ করে কোনও নেতার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি তৈরি করা যাবে না। সরকারি বিজ্ঞাপনে শুধুমাত্র তিনজন জীবিত ব্যক্তির (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি) ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। পরে রাজ্যগুলির আবেদনের ভিত্তিতে নিয়ম কিছুটা সংশোধন করে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালদের ছবিও যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া অন্য কোনও মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক বা রাজনৈতিক নেতার ছবি সরকারি বিজ্ঞাপনে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে বা নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করতে সরকারি টাকায় কোনও সাফল্য প্রচারের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।
বাস্তবে কিন্তু ছবিটি ভিন্ন। নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রায়ই ঘুরিয়ে করের টাকা অপচয় করার অভিযোগ ওঠে। অনেক সময় সরকারি প্রকল্পের বিজ্ঞাপনে সুকৌশলে মন্ত্রী-নেতাদের ছবি ব্যবহার করে প্রচ্ছন্ন প্রচার চালানো হয়। এ বিষয়ে দ্রুত রাশ টেনে সরকারি তহবিলের সদ্ব্যবহার করলে দেশ ও দশের মঙ্গল। জনগণের টাকার সদ্ব্যবহার হোক, কাম্য।
