Published on
:
2 min read
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়, দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার জেলবন্দি থাকা— এই পরিস্থিতিতে আপাতত আন্দোলনে বিরতির ঘোষণা করল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দীপাবলি পর্যন্ত কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচি নেই বলে জানিয়ে সমর্থকদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আবেদন জানালেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় আবেগঘন আবেদন জানান তিনি।
মঙ্গলবার অভিজিৎ দীপকে তাঁর সমর্থকদের ‘ককরোচ’ বলে সম্বোধন করেন বিশেষ ঘোষণা করেন। ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে যা ঘটেছে, তাতে আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন। তাই উৎসবের মরশুমে কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে কাটানো জরুরি। তাই, কয়েকদিনের জন্য আপনাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পরিবারের পাশে থাকুন, প্রিয়জনদের সঙ্গে থাকুন।’ নিজের বাবা-মায়ের পাশাপাশি সৌরভ ও আশুতোষের পরিবারের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
‘জেলে থেকেও ভয় পায়নি’, সৌরভ-আশুতোষের পাশে দীপকে
দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁদের জেলে আটকে রাখার অভিযোগ তোলেন দীপকে।
সিজেপি নেতার কথায়, জেলে থাকার পরেও সৌরভ ও আশুতোষের মুখে ভয়ের ছাপ নেই। আদালতে সৌরভের হাসিমুখে হাজির হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই মানসিকতাই আন্দোলনের শক্তি। পাঁচ দিন ধরে জেলে থাকার পরে আশুতোষ আদালতে এসে মুখে কোনো ভয়ের ছাপ নেই।’ দুই সহকর্মীর সাহসকে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেন সিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, জেলবন্দি করেও তাঁদের প্রতিবাদের মনোভাব দমিয়ে রাখা যাবে না।
দীপকের কথায়. 'স্কুল ঠিক করো' অভিযানের মূল চালিকাশক্তি হলো আশুতোষ ও সৌরভ। তিনি বলেন, ‘আমার সবসময় মনে হয়, যদি কেউ সত্যিই এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকেন, তবে তাঁরা হলেন আশু এবং সৌরভ। তাঁদের দুজনেরই খুব, খুব বড় ভূমিকা রয়েছে। আমি শুধু তাঁদের নির্দেশ পালন করছিলাম, সত্যি বলছি।’
কেন এই বিরতি?
গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে CJP। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা তৈরি হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানো নিয়ে সৌরভ ও আশুতোষের গ্রেপ্তারির পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই আবহে দীপাবলি পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে আপাতত আন্দোলনে বিরতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে দীপকে স্থায়ী ভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা বলেননি। বরং উৎসবের দিনগুলিতে পরিবারকে সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সমর্থকদের। ফলে দীপাবলির পরে CJP ফের কবে, কী কর্মসূচি নিয়ে পথে নামে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
FAQ
১. দীপাবলি পর্যন্ত আন্দোলনে বিরতি ঘোষণা করেছে কেন CJP?
দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জেলবন্দি থাকায় আন্দোলনকারীদের পরিবারের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে দীপাবলি পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
২. CJP-র কোন দুই নেতা জেলবন্দি রয়েছেন?
CJP-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. সমর্থকদের কী বার্তা দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে?
ভিডিয়ো বার্তায় দীপকে সমর্থকদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে, প্রিয়জনদের পাশে থাকতে এবং উৎসবের মরশুমে পরিবারের উদ্বেগের দিকে নজর দিতে আবেদন জানিয়েছেন।
৪. সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে নিয়ে কী বলেছেন দীপকে?
দীপকের দাবি, জেলবন্দি থাকলেও দুই নেতার মধ্যে ভয়ের ছাপ নেই। তাঁদের মনোভাবকে আন্দোলনের শক্তি বলে উল্লেখ করে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
৫. দীপাবলির পরে কি ফের আন্দোলনে নামবে CJP?
দীপাবলির পরে CJP-র পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দীপকে স্থায়ী ভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেননি; আপাতত উৎসবের দিনগুলিতে পরিবারকে সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
