ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের হদিস না মেলায় পাঁচ মাস ধরে আটকে আছে শিক্ষার্থীদের ফল। এ ঘটনায় বিভাগের দৈনিক মজুরিভিত্তিক পিয়ন জাবেদ আলীকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর ছাড়াই প্রথম পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরের ভিত্তিতে ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ২১০৭ নম্বর কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ায় প্রথম পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরকেই দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে গ্রহণ করে ফল প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পিয়ন জাবেদ আলীকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিভাগের পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সতর্কও করা হয়েছে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কোর্সের উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলম বিভাগে জমা দেন। পরে বিভাগের পিয়ন জাবেদ আলী দাবি করেন, তিনি ৬০টির বেশি উত্তরপত্রের একটি বান্ডিল বহিরাগত পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর থেকেই উত্তরপত্রগুলোর আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
উত্তরপত্র হারানোর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে প্রথমে বিভাগীয়ভাবে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম পরীক্ষকের নম্বরের ওপর নির্ভর করে ফল প্রকাশ এবং জাবেদ আলীকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
তবে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে ফলের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের ফল কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে আদেশে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
