আজকাল ওয়েবডেস্ক: আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচ ও সরকারি ব্যয় বরাদ্দের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার চরম অশান্তির চেহারা নিল ফ্রান্সে। ছাত্রছাত্রীদের নেতৃত্বাধীন শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল দেশজুড়ে এক বিধ্বংসী অস্থিরতায়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, যার মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই জমায়েত হয়েছিলেন অন্তত ১ লক্ষ ১০ হাজার বিক্ষোভকারী। তবে সেই দাবি আদায়ের আন্দোলন দ্রুতই হিংসাত্মক রূপ নেয়, যার জেরে অ্যাপল, লুই ভিটঁ কিংবা এরমেসের মতো বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের শোরুম ভাঙচুর করে অবাধে লুঠপাট চালাল উন্মত্ত জনতা।
প্যারিসের রাস্তায় ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ও দোকানে হামলা—সব মিলিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বোর্দোতে চোখ ধাঁধানো লাক্সারি আউটলেটগুলোর কাচ ভেঙে ঢুকে পড়ে লুটেরারা। লিয়ঁ শহরে পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, আর মার্সেই ও লিলের মতো শহরে উন্মত্ত বিক্ষোভকারীরা পুরসভার কার্যালয়ে চড়াও হয়। মার্সেইয়ের পৌর সদর দপ্তরে ঢুকে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক ‘মারিয়ান’-এর আবক্ষ মূর্তি আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়, নষ্ট করা হয় টিভি এবং দেওয়ালে দেদার আঁকা হয় নৈরাজ্যের চিহ্ন। রাস্তায় পোড়ানো হয় একাধিক গাড়ি। মুখোশ ও গগলস পরা প্রতিবাদীরা কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান উপেক্ষা করে পুলিশের মুখোমুখি দাঁড়ায়, এমনকি ক্ষোভের আঁচ পৌঁছায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদের দোরগোড়া পর্যন্ত।
ছাত্র, শিক্ষক, ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদের এই যৌথ মঞ্চে মূল দাবি ছিল ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধি, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো, পেনশন সুরক্ষা এবং জনসেবামূলক খাতে সরকারি বরাদ্দ ছাঁটাই বন্ধ করা। তবে বিক্ষোভের সুযোগে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রশাসন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে প্যারিসেই আটক হয়েছেন ১১০ জন। সরকার এই তাণ্ডবের জন্য চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও সুযোগসন্ধানী কিছু দুষ্কৃতীকে দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোরনু সাফ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকলেও লুঠপাট ও হামলার কোনও জায়গা নেই। সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, যারা দেশের সম্পত্তি ধ্বংস করেছে ও লুঠতরাজ চালিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
