আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপরও তার আস্থা রয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে সুষ্ঠু হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজের সংসদীয় আসনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট যে লোকটা, সেটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি এসব কথা বলেছেন। তাদের আমলে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ অবস্থার অবসান হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে একটি পদ্ধতি নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।
এ ছাড়া দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে দেশের মোট গ্যাসের মজুতের সমপরিমাণ গ্যাস ইতোমধ্যে ভোলায় পাওয়া যাচ্ছে। তার আশা, সেখানে আরও বিপুল গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে।
স্পিকার বলেন, ভোলার গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহজ বিকল্প ভোলাতেই রয়েছে। ভোলার গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
