রংপুরে লায়ন্স ক্লাবের কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উভয় পক্ষ। থানায়ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনটি নির্দেশনাসহ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এনামুল হক সোহেল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর বহিরাগতরা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তা ইনচার্জকে মারধর করে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
এনামুল হক সোহেল বলেন, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ক্লাব দখলের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লায়ন্স ক্লাবের সংগঠক মঞ্জিল মুরাদ লাভলু, বানিউল আদম ও শরিফুল ইসলাম বাবুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে নগরীর আরেকটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমেদ রুমি। তিনি লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এনামুল হক সোহেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
ফরিদ আহমেদ রুমির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এনামুল হক সোহেল জমি কেনার ক্ষেত্রে বিক্রেতার নামে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাহক চেক ইস্যু করে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে তা নগদায়ন করান। জমির নিবন্ধিত দলিলের মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা হলেও সরকারি গেইন ট্যাক্স ও আয়কর বাবদ ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দরপত্র ও প্রাক্কলন ছাড়াই ২২টি চেকের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও লিফট কেনার নামে ৫ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪৬২ টাকা এবং লিফট কেনার জন্য আরও ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স ও ঠিকাদারি লভ্যাংশ আত্মসাৎ, বিল-ভাউচারের নিরীক্ষায় অনিয়ম, লিফট কেনার দরপত্রে জালিয়াতি, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় গঠিত এলসি ফাউন্ডেশনের অর্থ আত্মসাৎ, ভবনের নকশা অনুমোদনে জালিয়াতি এবং অবৈধ বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেন তিনি।
এনামুল হক সোহেলের বিরুদ্ধে ২৫ থেকে ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগও তোলেন ফরিদ আহমেদ রুমি। তাঁর দাবি, প্রভাষক পদে ১৫ লাখ, সহকারী শিক্ষক পদে ১০ লাখ এবং অন্যান্য পদে ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লায়ন্স ক্লাবের পরিচালক নাজমুল আলম নাজু, সেক্রেটারি আকলাকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ কমিশনার মুহঃ মাহবুবুর রশীদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নির্ধারিত শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবস্থিত লায়ন্স ক্লাবের কার্যালয়ে ফরিদ আহমেদ রুমি পক্ষের লোকজন তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর এনামুল হক সোহেল পক্ষের লোকজন এসে সেই তালা ভেঙে আবার নতুন তালা লাগিয়ে কার্যালয়টির নিয়ন্ত্রণ নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
